গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া:

মো. নেজাম উদ্দিন। বয়স ২২ এর কাছাকাছি। পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিনের পূর্ব সোনাইছড়ি রমিজ পাড়া গ্রামের কাছিম আলীর পুত্র। ৪/৫ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল)। সঠিকভাবে বাড়ী ঘরের ঠিকানাসহ কথাবার্তা সঠিকভাবে বলতে পারেনা। শরীরের কাপড় ছোপড় ও পরেনা। অর্ধনগ্ন হিসেবে কাঁটাল গাছের উপর মাচা তৈরী করে সেখানেই সারাদিন ঘুমিয়ে বা চেচামেছি করে সময় পার করেন। কিন্তু মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) সহ তার পরিবারের নিরীহ ৩ সদস্যের বিরুদ্ধে চকরিয়া সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে গত ৪/০৬/২০১৭ইংরেজী তারিখে কথিত একটি ঘটনা সাঁজিয়ে মামলা দায়ের করেন তাদের প্রতিবেশী মৃত বাচা মিয়ার পুত্র মামলাবাজ মো. জামাল হোসেন (৬২) নামের এক ব্যক্তি। যার মামলা নং সিআর ৭৪৩/১৭ইং। আর এ ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আসামী করা হয়েছে, মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগলের) বড় ভাই আসহাব উদ্দিন ও লাতু মিয়ার স্ত্রী জয়দা বেগমকে।

মামলার আর্জিতে বাদী জামাল হোসেন দাবী করেছেন, গত ৩১/ ০৫/২০১৭ ইংরেজী তারিখ সকাল ৭টার দিকে তার বসত বাড়ির ঝলি টেংরা মেরামতের কাজ করছিল। এসময় নেজাম উদ্দিনসহ অপরাপর বিবাদীরা তার উপর হামলা করে এবং গুরুতর আহত করে। কিন্তু গতকাল ৮মে সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩১ মে ওই গ্রামের জামাল হোসেনের সাথে মানসিক ভারসাম্যহীন পাগল নেজাম উদ্দিনের পরিবারের কোন মারামারির ঘটনা সংগঠিত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন নেজামের পরিবারের বসতভিটা জোরপূর্বক জবর দখলের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছিল জামাল হোসেন। এরই ধারবাহিকতায় মিথ্যা ঘটনা সাঁজিয়ে জামাল হোসেন আদালতে পাগল নেজাম উদ্দিনসহ তার পরিবারের লোকজনকে আসামী করে হয়রানীর চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, নেজাম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন। কাঁটাল গাছের উপর মাচার উপর রাতদিন বসে বা ঘুমিয়ে দিন কাটান। শান্ত প্রকৃতির মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেটি। এরপরেও তাকে আসামী করে হয়রানীর বিষয়টি সম্পন্ন মানবাধিকারের চরম লংঘন। স্থানীয়রা অবিলম্বে ওই মিথ্যা মামলার হয়রানীর কবল থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন নেজাম উদ্দিনসহ তার পরিবারের সদস্যদের রেহাই দিতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোরালো হস্থক্ষেপ চেয়েছেন।